ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা

ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা: ভাইবোন হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে মধুর সম্পর্কের মধ্যে অন্যতম । ছোট বেলায় মারামারি,ঝগড়া,খুনসুটি সবকিছুই স্মৃতির পাতায় চির স্বরনিয় হয়ে থাকে। বড় হওয়ার পরেও ভাইবোনের ভালোবাসার কোন কমতি থাকেনা । এই রকম কিছু ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা আজ আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম । 

 

ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা

 

ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা:

এক বোন পারুলের পাশে আজ ৭ ভাই চম্পা নেই,
স্বার্থের সংঘাতে হয়ে গেছে তারা আলাদা সবাই,
একা থাকে পারুল, রয় সারা দিন চুপ করে,
মাঝে মাঝে ভাবে এ সব ঝুটো সেন্টিমেন্ট ফেলবে ঝেড়ে।

কানেতে হঠাত বাজে সে এক অস্ফুট ক্ষীণ ধ্বনি,
কে যেন ডাকে তারে ডাকে শুনছ ওগো দিদিমণি ?
দেখে ছোট্ট এক অনামী ফুল ফুটে আছে ঝোপের মাঝে,
কথাটা কিন্তু সে বলছে না কো মোটেই বাজে।

পারুল দিদি আজ তুমি নয় একা,
দুর্বল এখন তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছে দেখনা কজন,
নাইবা পেলে আপন ভাইয়ের হাতটা ধরতে,
তুমি অচেনা ভাইয়ের হাতের জোগান দিচ্ছে মাতৃভূমি।।
—Dilip Kumar Bandyopadhyay

হে মৃদুলা শিশু সাথী, বোনটি আমার আজিকে স্মরণে জাগে সেদিনের কথা
তোমার সে মৃত্যুক্ষণ কত দুঃখ ব্যথা হৃদয় কন্দরে আনে বেদনা-অপার ।
তদ্ পূর্বে দুঃখ-দিন আজো মনে জাগে আমি বড় ভাই সেই শৈশবের বেলা,
তুই শিশু হে মৃদুলা করো ধুলি খেলা । সে সময় দুঃখ তীর বুকে এসে লাগে ।

আমাদের মা জননী শামসুন্ নাহার মৃত্যুর করাল গ্রাসে গেল যে কবরে
নাইকো সান্তনা শান্তি আমাদের ঘরে চারিদিকে শুধু দুঃখ আর হাহাকার ।
সেই ক্ষণে ২ জনের অশ্রু এক সাথে মিশে হলো এক নদী জীবন-প্রভাতে ।।
—Abdul Mannan

দীর্ঘ ১২টি বছর পরে, ছোট্ট আমার বোন এলো ঘরে.
টুকটুকে ঠোঁট, একমাথা চুল, এপাশে ওপাশে দেখে টুলটুল.
টলে টলে হাঁটে, আধো আধো বলে, ছেড়ে থাকি নাক’, তুলে নিই কোলে.
কথার ঝুড়ি, নাম ঝুমঝুম, দুষ্টুমি তার কেড়ে নেয় ঘুম।

ঘরকুনো সে তো, যায়না কোথাও; স্কুলে সর্দার, লজ্জা উধাও.
ছোট্টবেলার সাথী সে ছিলনা, ঝগড়াও হত’ কখনও,
বড় হয়ে গেল বড় তাড়াতাড়ি, কোনও কথা নেই লুকোনো.
দিদি যে তার মায়ের মত, ২জনাই যায় ভুলে,
দিদির চোখের জল মুছে দেয়, নিতে চায় কোলে তুলে ।

নদীর সাথে নদী এসে মেলে; দিদি-বোন যায়, দূরে দূরে চলে.
কখন যে তারা একাত্মা হয়, বুঝে ওঠে নাতো নিজেরাই,
শরীরে শরীরে ছোঁয়া ছুই নেই, মনে মনে কাছে আসে তাই.
রাখি বাঁধে তারা, ভাইফোটা দেয়,মুখাগ্নি, অশৌচে সাথে ভাগ নেয়.
ধরাতে যে এ সম্পর্ক অমূল, দিদি ও বোনের মিলন অতুল ।।
—ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য

 

ভাই বোন সম্পর্কিত স্ট্যাটাস :

ভাই, বোনের বন্ধন মানেই হাজার রাগ, অভিমান করার পরেও কথা না বলে থাকতে না পারা ।

ভাই বোন হলো এমন একটি সম্পর্ক যার প্রত্যেক শব্দে ঝগড়া মিশে আছে কিন্তু ভালোবাসার কোন কমতি নেই ।

Unlimited ঝগড়া + Unlimited, কেয়ারিং+ Unlimited ভালোবাসা = ভাই-বোন ।

“বোন”
অনেক ছোট্য একটি শব্দ আর পাওনা অনেক বড় ।

বড় বোন, যে ছোট থেকেই নিজের সন্তানের মত করে ছোট ভাই-বোনদের আগলে রাখে ।
নিজের সব কিছু ভুলে শুধু তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যস্ত থাকে ।

ভাই বোনের ভালোবাসার কবিতা

 

ভাইঃ এক যে আছে বোন নাম তার সার্সী,
সার্সী মানে জলপরী নিয়ে সে আর্শী,
কী যেন ভাবে বসে সব সময়ই মাথায় তার দুষ্ট বুদ্ধি আসে ।
বললাম তাকে পড়তে মারলো ছুঁড়ে আর্শী,
বললাম আমি সার্সী,কর আমায় মার্সী ।

মায়ের নাম রাজেশ্বরী তার আবার দেমাগ ভারী ।
মা’টি মোদের দজ্জাল পেটায় মোদের খুব,
মায়ের ভয়েই মাঝে মাঝে দেয় কোথা সে ডুব ।
একদিন সে টপ করে টাকা গিলে খেলো,
হাসপাতাল থেকে ফিরে হয়ে গেল ভালো ।
চেঁচায় না ভাঙ্গে না ছোড়ে না আর আর্শী আমার লক্ষ্মী বোন সার্সী ।।

বোনঃ দাদা আমার দুষ্টু ছেলে আনন্দ নিকেতনে পড়ে ।
আন্টিরা সবসময় তাকে কোলে নিয়ে ঘোরে,
নইলে সে সবকিছু ভেঙ্গেচুরে ফেলে,
এজন্যই সবসময় থাকে সে কোলে ।।
—ধীমান বসাক

২০ বছর পেরিয়ে আবার এসেছি গড়াই তীরে,
শূন্য বুকের হাহাকার নিয়ে যেতে হবে সেই নীড়ে।
আকাশ কেঁদেছে, বাতাস কেঁদেছে, কেঁদেছে বৃক্ষ-ফুল,
তোমায় না পেয়ে নিঃস্ব আমি যে হারিয়ে ফেলেছি কুল।

এ কোন বিচার করলে তুমি হে বিশ্ব স্রষ্টা প্রভু,
ফিরে কি আর আসবে না কভু আমার লক্ষ্মী বোন ?
সেই কথাটি জানতে এসেছি অশ্রু জমানো চোখে,
আর কত ব্যথা দেবে তুমি আজ শূন্য এ ভূমির বুকে।

এত ব্যথা আর সয় না প্রাণেতে করি কি এখন আমি ??
পাষাণ হৃদয় মানে না মানা জানো না প্রভু তুমি।
বোনকে আমার ফিরিয়ে না দিলে মোরেও কর সেই সাথী,
বিশ্বভুবনের আঁধার পেরিয়ে কে দেখি জ্বালায় বাতি।
—তানজির হোসেন পলাশ

ও হে ভাই আজ তুই কোথায় ?
খুজেছি তোকে সবখানে আজ তুই আকাশপানে ।
আসবি না কি, কখনো ফিরে ? এই পৃথিবীর ভীড়ে ।

আকাশপানে তাকিয়ে খুঁজি তোকে,
আসবি না কি, এই পৃথিবীর বুকে?
তারা হয়ে আজ রয়েছিস জলন্ত,
তোর জন্য ভালবাসা আমার, অনন্ত।
দিলাম আজ তোকে এই খোলা চিঠি,
গ্রহন করিস, মেলে তোর পবিত্র হাত দুটি।
—The Xrif

এক বিন্দু রক্তের মহাউৎসব সৃষ্টিচয়ন একই নাড়ি ছেঁড়া মায়ার কি বাঁধন!
ভুবন জুড়ে বিস্ময় ! কৃষ্ণ সাদা ফুলবাগান,
দেখো কি সুন্দর বিনিসুতোর মালার ধরণ
সুখ দুঃখে প্রণয়চিরে রূপ রাঙা গাঁথন।
যতোই বয়ে যাক না,সিডর সুনামী স্যান্ডি-
কভু যাবে না করা, বোনভ্রাতার খন্ডন,
যুগের পর যুগ ধরে চিররবে সেতুবন্ধন।

স্রষ্টার সৃষ্টি শত অনবদ্য হাসনাহেনা বকুল,
সু-গন্ধি ছড়াবেই তাতে বাতায়নে বাতায়ন-
বোনভ্রাতৃত্বের এক কুল, স্বাক্ষবহ মানবফুল.

সবুজ পাতা আর রঙিন ফুলের ঝন ঝন মারকুটে আওয়াজের দেহনোনাটে দৃশ্য নয়,
শতবর্ষ জুড়ে নতুন ক্ষণে অম্লান মহৎময়;
দু’জন যে সদ্যফুটা ফুলেল ঘ্রাণ বয় বয়-
বাবা মায়ের উৎসবে উল্লাস ভুবন জয়।
—আলমগীর সরকার লিটন

কুপির উদরটা কেরোসিনে পূর্ণ,
তবু সলতেটা খুব ছোট বলে নিভু নিভু।
জ্যোছনাটা বড়ই পিশাচ ! আলো দেবেনা বলে আজ মেঘের বুকে মুখ লুকিয়েছে।
আর নির্লজ্জ মেঘও চক্ষু লজ্জা বেচে জ্যোছনার সাথে ঢলাঢলি করছে !
জানালার পাশে ডুমুর গাছে অসহ্য পেঁচা নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে আছে,
যেন আমার সাথে ওর শুভদৃষ্টি !

উফ! পোড়া ভাতের কি গন্ধ! সয়ে নিলাম। ভর্তাটা হয়নি মন্দ।
আধো ফোটা ভাত, তবুও যে আজ সুধার মতো লাগছে !
তৃপ্তির ঢেকুর তোলার আগেই হঠাৎ দাঁতের নিচে
কচ করে পিষে গান্ধি পোকা বমি আনলো যেচে !
ওয়াক-ওয়াক-ওয়াক থু! ঘর গেলো ভেসে।
পারছি না আর সইতে দিদি, নিয়ে যা তোর দেশে।

মিথ্যেবাদী পাঁজি দিদি খুবতো বলতিস জোরে,
ভুলে গিয়েছি মাকে আমি, তুইও ভুলে যা-রে!”
ছোট বলে একলা ফেলে পালিয়ে গেলি শেষে,
নে-না দিদি আমায় তোদের সাদা মেঘের দেশে।
—আপেল মাহমুদ

শৈশব ও কৈশোরের সেই টিপ টিপ পায়ে হারিয়ে যেতাম আমরা ভাইবোন অন্য গাঁয়ে,
চারিদিকে মা-বাবার চিরুনি তল্লাশি আর জিজ্ঞাসা, কেউ কী দেখনি ?
বাড়ী ফিরে মায়ের আঁচলে লুকিয়ে খেতাম বাবার বকুনি।

সেই ছোটবেলায় পুতুল খেলায় কেটে যেত সময় হেলায় হেলায়,
বাড়ীর পাশে মাঠের ঘাসে ভাই/বোনের খুনসুটি আর পারাপারি,
মা-বাবার কড়া শাসনের মধ্যেও অনেক সময় করতাম মারামারি।

শৈশব ও কৈশোরের বয়স পেরিয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে গেলাম হারিয়ে,
যৌবনের যাঁতাকলে ব্যস্ততার বহুতলে ভুলে যাই সেই পুরনো দিনের স্মৃতি,
আর ভাই/বোনের রক্তের সম্পর্কে টেনে দেই অনতিকালের ইতি।

সময় ও বাস্তবতার গেঁড়াকলে পড়ে নীরবে চোখের অশ্রু ঝড়ে,
তাই আজ মনে পড়ে যায় সেই শৈশবের আবেগের কথা,
যা স্মৃতিতে অম্লান আর আমার হৃদয়ের গহীনে গাঁথা।
—K.M. Zakir Hossain

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *